উচ্চ র‍্যাঙ্ক পেতে একটি আদর্শ মানের পোস্ট কত শব্দ দ্বারা লিখতে হয়?

আমরা যখন কোন শব্দ বা বাক্য লিখে সার্চ করি, তখন সার্চ ইঞ্জিন ঐ শব্দগুলোকে টার্গেট করে। সার্চিং রোবটগুলো খুঁজে বের করে কোন প্রবন্ধে এই শব্দগুলো আছে এবং এটাও খুঁজে বার করে শব্দগুলোর মাধ্যমে সঠিক বাক্যে উত্তর লিখিত রয়েছে কিনা। সেই অনুযায়ী সার্চ ইঞ্জিন বিভিন্ন ওয়েবসাইটের পোস্টগুলোকে মানের ভিত্তিতে তালিকাকারে দেখায়। 

একটি আদর্শ মানের পোস্ট

উত্তর লিখিত রয়েছে কিনা- কথাটি কেন বললাম? প্রশ্ন থাকতেই পারে। সেটা হল; আমরা সবসময় সার্চ ইঞ্জিনে শুধু উত্তর-ই খুঁজি। তাই প্রবন্ধ লেখার ক্ষেত্রে সঠিক উত্তর দিতে চেষ্টা করবেন। সঠিক উত্তর লিখতে যদি অল্প বাক্য ব্যবহার করতে হয় তবে সেটাই করুন। বেশি বাক্য ব্যবহার করে প্রবন্ধ দীর্ঘ করার প্রয়োজন নেই।

অনেকে বলে; দীর্ঘ পোস্ট লিখলে ফলাফল ভালো পাওয়া যায়। হ্যাঁ, এটা ঠিক। কারনটা হল; দীর্ঘ প্রবন্ধে শতশত শব্দ থাকে। যেগুলো সার্চ ইঞ্জিনের রোবটগুলোকে প্রভাবিত করে এবং টার্গেটিং কী (key) ম্যাসিং বা মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে আমি বলি, আপনার প্রবন্ধ যদি মান সম্পন্ন হয়, অল্প কথাতে পাঠককে বোঝাতে পারেন। তাহলে প্রবন্ধ দীর্ঘ করার কোন প্রয়োজন নেই।

কত শব্দের লেখা প্রবন্ধকে একটি ওয়েবসাইটের জন্য আদর্শ মনে করা হয়?

এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য আমি বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইটের বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করব। আপনাকে শুধু ধৈর্য্য ধরে এই প্রবন্ধটি পড়তে হবে।

আপনার ওয়েবসাইট যদি নিউজ ভিত্তিক হয়। তাহলে তেমন সীমাবদ্ধতা নেই। পাঠকরা এখানে সঠিক তথ্য চায়। সুতরাং যেমন তথ্য তেমন দৈর্ঘ্য। যে সাইট গুলো সবসময় আপডেট থাকে এবং প্রতিনিয়ত প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়। তাদের ক্ষেত্রে কোন সীমাবদ্ধতা নেই।

ব্যক্তিগত ও গবেষণামূলক ওয়েবসাইট সম্পর্কে কিছু কথা। আমার জানামতে, যারা ব্যক্তিগতভাবে ওয়েবসাইট চালায়। তারা কোন না কোন বিষয়ের উপর প্রবন্ধ লেখেন। আর একটি বিষয়ের উপর প্রবন্ধ লিখতে গেলে তার খুঁটিনাটি সবগুলোই লিখতে হয়। প্রমাণ দিতে হয়, উদাহরণ টানতে হয়, আরো কত কি।

বিশেষ করে যারা দর্শন, ভ্রমণ (Travelling), আবিষ্কার, গবেষণা, কালচার, ভূগোল, জ্যোতির্বিদ্যা, ইতিহাস ইত্যাদি নিয়ে ব্লগিং লেখেন। তারা তো বাপ, দাদা, চৌদ্দ গুষ্টির কুষ্টি পর্যন্ত উদ্ধার করে ছাড়েন। চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করা কি মুখের কথা? অবশ্যই এই রকম প্রবন্ধ লিখতে প্রচুর শব্দ ব্যবহার হয়। ইতিহাস কিন্তু নির্দিষ্ট সংখ্যক শব্দে সীমাবদ্ধ নয়। এবং শব্দ কম হলেও বানিয়ে বানিয়ে ইতিহাস লেখা যায় না। আবার গবেষণা গুলো প্রমাণিত ফলাফলের উপর নির্ভর করে। যা প্রমানিত হয় তাই লেখা হয়। এই সকল প্রবন্ধ নির্দিষ্ট সংখ্যক শব্দের উপর নির্ভর নয়। আরো যেমন: রসায়ন, পদার্থ, গণিত, আর্কিটেক্ট, ইলেকট্রিক ও বিভিন্ন আধুনিক বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু।

কৃষি, প্রাণী, মানুষের স্বাস্থ্য বিষয়ে লিখতে গেলে রোগ, ঔষধ, পথ্য, লক্ষণ, রোগীর বয়স সহ নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হয়। আবার নাকি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে! চিন্তা করুন এতকিছু লিখতে গেলে প্রবন্ধ তো দীর্ঘ হবেই। আরও যদি ওই প্রবন্ধে রোগের উৎপত্তি এবং ইতিহাস যুক্ত করা হয়? বাকিটা ইতিহাস.....। তাই; এই সকল সাইটে শব্দ হিসেব না করে মূল তথ্যটি লিখুন। কারণ, পাঠকগণ এসকল সাইটের প্রতি আস্থা রাখে।

এবার আসা যাক— গল্প, কবিতা, উপন্যাস, গান, লোকসংস্কৃতি প্রবাদ-প্রবচন, রান্না-রেসিপি, প্রশ্নোত্তর মুলক সৃজনশীল ও সাহিত্য বিষয়ক ওয়েবসাইটে। ধরে নিলাম, আপনার একটি কবিতা বিষয়ক ওয়েবসাইট রয়েছে। আমি যদি বলি 1000 শব্দ দিয়ে পোস্ট লিখলে ভাল রেংকিং পাবেন। এখন আপনি কবিতার ওয়েবসাইটে প্রতিটি কবিতা 1000 শব্দ ব্যবহার করে লিখতে পারবেন কি?

অবশ্যই না। লিখতে গেলে হয় আপনার ফিতা ছিড়ে যাবে। নয়তো লেখার স্বাধীনতা হারাবেন। গানের কথা না হয় ছেড়ে দিলাম। অপর দিকে গল্প-উপন্যাস গুলো তো হাজার হাজার শব্দ পেরিয়ে যায়। এছাড়াও একটি রেসিপি রান্নার জন্য ১০০০ কিংবা তার অধিক শব্দের আর্টিকেল কেউ পড়বেনা। তাই এইসব ওয়েবসাইটে শব্দ সংখ্যা নিয়ে মাথা ঘামানো উচিৎ নয়।

এছাড়াও প্রযুক্তি (Tech), ফ্যাশন, লাইফ স্টাইল, বিনোদন বা সমসাময়িক বিষয় গুলোতে তরুণ প্রজন্মের পদচারণা বেশি। যারা Google Adsense মনিটাইজ সহ র‍্যাঙ্ক করতে চান, বিশেষত তাদের জন্য এই অংশটুকু (অন্যরাও পড়তে পারেন)🤗।

অনলাইনে ইনকামের জন্য আমাদের প্রতিযোগিতামূলক কনটেন্ট তৈরি করতে হয়। ভালো ট্রাফিক না পেলে ইনকাম করা খুবই দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। সেই ট্রাফিক গুলোর আবার সিংহভাগ অর্গানিক (Organic Traffic) হতে হবে। অর্থাৎ থার্ডপার্টি অথবা সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নির্ভর না করে শুধু সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমেই আনতে হবে। অন্যথায় নিষেধাজ্ঞা জারি করবে আমাদের প্রিয় Google AdSense.

আর এই প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে; ‘কত শব্দের প্রবন্ধ লিখে সার্চ ইঞ্জিনে ভালো রেঙ্ক পাওয়া যায়?’ এই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরতে থাকে। যেহেতু এটাও পোস্ট SEO করার একটা ধাপ।

সাধারণভাবে ব্লগের জন্য একটি আদর্শ মানের প্রবন্ধ 1000 শব্দের বেশি হওয়া উচিত। আর আপনার প্রবন্ধ যত দীর্ঘ হবে, গুগোল রেঙ্ক তত বেশি হবে। প্রবন্ধগুলো ততটুকুই লেখা উচিত যতটুকু পাঠকের জন্য প্রয়োজন। যেমন কিছু প্রবন্ধ আমরা 300‘র মত শব্দ দ্বারাই পাঠককে ভালোভাবে বোঝাতে পারি। যখন আপনি 300 শব্দের মধ্যে পাঠককে বুঝাতে পারছেন, সেখানে আপনার 1000 এর বেশি শব্দ প্রয়োগের কোন প্রয়োজন নেই।

অনেক সময় গভীর তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রবন্ধের দৈর্ঘ্য 1600 শব্দের মধ্যে বা তার বেশি হয়ে থাকে। তাই আদর্শ মানের প্রবন্ধ ধরা হয় 1000 থেকে 1600 শব্দের মধ্যে।

কেন এই সংখ্যক শব্দের প্রবন্ধকে আদর্শ মানের বলা হলো? কারণ রয়েছে। সেটা হল: 1000—1600 শব্দের মাঝামাঝি প্রবন্ধ গুলো পড়তে আপনার গড়ে ১০ মিনিটের মত সময় লাগে। যা পাঠকের ধৈর্যের মধ্যে পড়ে। সেই সাথে কী-ওয়ার্ড SEO‘র জন্যও মোটামুটি ভালো।

আপনি যদি 2,000 বা তার বেশি শব্দের নিবন্ধন লেখেন। তাহলে সেটা রেঙ্কিং এর জন্য বেশ ভালো। তবে এমন দীর্ঘ প্রবন্ধ পড়তে পাঠক ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। যেহেতু প্রতিযোগিতামূলক সাইট গুলোর সিংহভাগ ভিজিটর তরুণ প্রজন্ম।

এটা মাথায় রাখতে হবে তরুণরা বেশ চঞ্চল। এরা সবসময়ই শর্টকার্টে মূল তথ্যটি পড়ে এবং অল্প কথায় দ্রুত সঠিক প্রশ্নের উত্তর চায়। যারা তিন ঘণ্টার সিনেমা টেনেটুনে দেড় ঘণ্টায় শেষ করে। কিভাবে তারা হাজার হাজার শব্দের সম্পূর্ন প্রবন্ধ পড়বে?

দর্শকরা যখন ধৈর্য্য হারিয়ে দীর্ঘ প্রবন্ধ টেনেটুনে পড়ে সাইট ত্যাগ করে। তখন সাইটের বাউন্স রেট (bounce rate) বেড়ে যায়। যার মানে হলো; আপনার প্রবন্ধে ভিজিটররা তেমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় না।

এবার আসুন বিশ্বের সেরা নেটবিদদের কথা পড়ি। তাদের মতে, একটি আদর্শ মানের ওয়েব পোস্ট কত শব্দের মধ্যে লেখা উচিত?

MOZ বলে: 5,000 শব্দের নিবন্ধন গুলো ভালো রেঙ্ক করে। 2,350 থেকে 2,425 শব্দের নিবন্ধন গুলো তাদের কাছে আদর্শ বলে মনে হয়েছে।

Hubspot এর ডেটা অনুসারে এসইও(seo)-এর জন্য, আদর্শ ব্লগ পোস্টের দৈর্ঘ্য 2,100-2,400 শব্দ হওয়া উচিত। এবং তারা দীর্ঘ পোস্ট লেখার পরামর্শ দেয়।

Yoast বলে: আপনি যদি 1000 শব্দ বা তার বেশি শব্দের দীর্ঘ, উচ্চ-মানের ব্লগ পোস্ট লেখেন তবে আপনার Google-এ র‌্যাঙ্কিংয়ের উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের নিজের ওয়েবসাইটে যে পোস্টগুলো ভাল রেংকিং করেছিল সেগুলো 2500 শব্দের বেশি।

অপর দিকে Neil Patel লিখেছেন, তার সাইটে বেশিরভাগ প্রবন্ধ 2000 থেকে 3000 শব্দের মধ্যে লেখা। কিন্তু সেরা রেঙ্ক পাওয়া নিবন্ধন গুলো ছিলো গড়ে 5,000 শব্দের। এছাড়াও নেল প্যাটেল একটা তালিকা তৈরি করেছেন। কোন বিষয়ে কত সংখ্যার শব্দ ব্যবহার করা আদর্শ। সেই তালিকাটি নিচে দেয়া হলো:

একটি আদর্শ মানের পোস্ট 2

এছাড়াও ইংরেজি ওয়েবসাইটগুলোতে ব্লগারগণ সবসময়ই বলে থাকেন, দুই হাজারের বেশি শব্দ প্রয়োগ করতে। এটা বলা স্বাভাবিক, যেহেতু ইংরেজিতে হাজার হাজার ওয়েবসাইট রয়েছে যার লক্ষ লক্ষ প্রবন্ধ রয়েছে এবং সময়ের সাথে সাথে তা আরও বাড়ছে। অর্থাৎ কার ঘাড়ে পাড়া দিয়ে কে উপরে উঠতে পারে। তাই তাদের একটু বেশি বড় প্রবন্ধ লিখতে হয়। সাথে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হয়।

উপরের কিছু আলোচনা এবং আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় আমি বলব: আপনি তখনই সেই প্রবন্ধটি হাজার হাজার শব্দ ব্যবহার করে লিখবেন। যখন ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে দেখবেন ঐ বিষয়ে অন্য প্রবন্ধগুলো হাজার হাজার শব্দ দিয়ে লেখা রয়েছে। কারণ তাদের টেক্কা দিতে হলে ওদের থেকেও বেশি তথ্য সমৃদ্ধশালী প্রবন্ধ আপনাকে লিখতে হবে। এবং তথ্য বহুল সংখ্যক শব্দ জোগাড় করতে হবে। অন্যথায় যতটুকু জানেন ততটুকুই গুছিয়ে লিখুন।

আর যদি আপনার মনে হিংসা থাকে!😁 ভবিষ্যতে যাতে কেউ আপনার উপরে যেতে না পারে। তার জন্য আপনি তথ্য বহুল মানসম্মত এভারেস্ট পাহাড়ের মত সুউচ্চ-দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখে রাখতে পারেন।🤗

শেষ কথা: ভালো রেঙ্কিং পেতে লম্বা প্রবন্ধ লিখলেই হবে না, ভালো মানের শব্দ প্রয়োগ করতে হবে। আপনি যে বিষয়ে প্রবন্ধ লিখবেন তার সমস্ত খুঁটিনাটি জেনে প্রবন্ধ লিখুন। আর হ্যাঁ, ওয়েব সাইটের বিষয়বস্তু কোন বয়সের পাঠকদের জন্য লেখা। সেটাও খেয়াল রাখবেন।

আর্টিকেল টি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
পরবর্তী প্রবন্ধ
মন্তব্য নেই
মন্তব্য করুন
comment url